Taured mystery - Man without country

 


১৯৫৪ সালের জুলাই মাস। জাপানের টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরে নামেন এক ব্যক্তি। অন্য বিমান যাত্রীদের মতো তাঁকেও শুল্ক বিভাগের অফিসারের সামনে হাজির হতে হলো নিয়মবিধি পালনের জন্য। তাঁর আচরণ, সঙ্গে থাকা নথি সবই ছিল সঠিক। তাতে সন্দেহ হয়নি শুল্ক অফিসারেরা। কিন্তু তিনি এমন একটি কথা বলেছিলেন যা শুনে চমকে উঠেছিলেন তাঁরা। লোকটির পাসপোর্টে লেখা আছে, ‘টরেড’ নামের কোনও দেশ থেকে এসেছে সে। পাসপোর্ট-টা তো ঠিকঠাকই লাগছে, কিন্তু টরেড! সারা দুনিয়ার কোনও ম্যাপেই তো এই নামের কোনও দেশ আছে বলে জানে না তাদের! মানুষটিকে এ বার জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হল তার দেশ নিয়ে।

টেবিলে ছড়ানো একটা ম্যাপের মধ্যে দেখিয়ে দিতে বলা হল তার দেশ কোনটা। জবাবে লোকটা বিন্দুমাত্র দেরি না করেই দেখিয়ে দিল একটি দেশ “টরেড”। তিনি যেটাকে টরেড বলে চিহ্নিত করেছিলেন, সেটি বাস্তবে ছিল অ্যান্ডোরা। স্পেন এবং ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত একটি দেশ। 

ভীষণ সমস্যা! অফিসারেরা তখন দেখলেন, লোকটার কাছে ইউরোপের নানা দেশের টাকা রয়েছে, তা ছাড়া তার পাসপোর্টেও পৃথিবীর বহু দেশের বহু এয়ারপোর্টেরই সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স-এর সিলছাপ দেওয়া। এমনকী এই টোকিওতেও আগে বেশ ক’বার আসা হয়েছে তারও প্রমাণ রয়েছে। টোকিয়োর যে সংস্থায় তিনি কর্মরত বলে জানিয়েছিলেন, খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সেই সংস্থা রয়েছে। অর্থাৎ তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কিছুর প্রমাণ তখনও পর্যন্ত পাননি অফিসারেরা।

তাঁর রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য শেষে বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে তাঁকে সেই রাতের মতো রাখার ব্যবস্থা করেন অফিসাররা। তিনি যাতে পালাতে না পারেন তার জন্য ঘরের বাইরে দু’জন রক্ষীও মোতায়েন করা হয়।

টোকিয়োর যে হোটেলে লোকটি থাকেন বলে জানিয়েছিলেন সেই হোটেলের অস্তিত্ব থাকলেও তাতে তাঁর নামে কোনও ঘর বুকিং হয়নি বলে জানা গিয়েছিল।

তা, ওঁদের দেখেই হোটেল রুমের পাহারা থেকে উঠে-আসা রক্ষী দু’জন ‘নিরাপত্তার কারণে আটকে রাখা’ সেই সন্দেহজনক বিমানযাত্রীর ঘরের তালা খুলে দিলেন।
ঘরের দরজা বন্ধ, জানালা বন্ধ, এমনকী ঘরের বিছানাপত্র মায় প্রতিটি জিনিসই এমন পরিপাটি ভাবে গোছানো যে, কেউ যেন তাতে হাতও দেয়নি। শুধু ‘টরেড’ থেকে আসা সেই লোকটা সেই তালাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকেও গায়েব!

ঘরটিতে একটিমাত্র দরজা ছিল। কোনও ব্যালকনিও ছিল না। বহুতলের একেবারে উপরের দিকে ছিল সেই ঘর। অথচ ঘরের মধ্যে ওই ব্যক্তি ছিলেন না। দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা ছিল।

অনেক চেষ্টার পরও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। কী ভাবে তিনি সকলের নজর এড়িয়ে চলে গেলেন তা আজও জানা যায়নি।

পরবর্তীকালে তাঁকে নিয়ে নানা মত উঠে এসেছে। কেউ মনে করেন, তিনি টাইম ট্রাভেল করে এসেছিলেন। কারও মতে তিনি ছিলেন এলিয়েন। রহস্যজনক দেশ থেকে আসা ওই ব্যক্তি রহস্য হয়েই রয়ে আছে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ