মৃত্যুর পর কি হয়? বৈজ্ঞানিক ব্যাখা

 


আজকের দিনে যে সকল জিনিসের অস্তিত্ব আছে, ভবিষ্যতে সেই জিনিসের বিনাশ ঘটবেই। যেমনঃ মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, গ্রহনক্ষত্র, এমনকি ব্লাক হোল এর ও। এই কারনেই অতীত থেকেই অনেক মানুষ মৃত্যুকে নিয়ে কৌতুহল বোধ করে। অনেকে আবার এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে একদম ই পছন্দ অরে না। অনেকে তো মৃত্যুর নাম শুনলেই ভয় পেয়ে যায়। তবে এই একটা জিনিসের গেরান্টি রয়েছে, এ হলো, আমাদেরকে মরতে হবেই। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের জানাটা অনেক জরুরী। অনেকের মধ্য এই প্রশ্নটাও আসে যে, মৃত্যুর পর কি ঘটবে। এই বিষয়টি নিয়েই আজকে আলোচনা করবো। তবে হ্যা, এই বিষয়ের লজিকেল আর বৈজ্ঞানিক দিকটি নিয়েই আলোচনা করবো, ধর্মীয় দিক নিয়ে নয়।

অনেক মানুষ মানেন, এই জীবনের পরেও আরো কিছু রয়েছে। যদিও এই ভাবনা এসেছে সম্পূর্ণ ধর্মের ভাবনা থেকে। কিন্তু কিছুদিন আগে এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখা পাওয়া যায়। 

কিছু বছর আগে একটি রিসার্চ করা হয়েছিলো জার্মানিতে, যেখানে কিছু অস্বাভাবিক জিনিষ আবিস্কার করা হয়েছিলো। রিসার্চের জন্য এমন কিছু পেশেন্ট এর ওপর লক্ষ্য রাখা হয়েছিলো, যারা কোমায় ছিলো। কিছু পেশেন্ট ছিলো যাদের মাথার কিছু অংশ কিছু সময়ের জন্য কার্যকরী ছিলো না। ঠিক হবার পর তারা কিছু এক্সপেরিয়েন্স এর কথা বলেছিলো, যেগুলি সাইন্স এর ব্যাখা থেকে একটু আলাদা ছিলো। এগুলোকে পরবর্তীতে বলা হতো N.D.E (Near Death Experience). এই অনুভুতি ইশারা করেছিলো জীবনের পরেও আফটার লাইফ বলে কিছু রয়েছে।

এই স্টাডি হিসাবে ৪৫% লোক নিজেদের নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স করেছিলেন, যেখানে তারা প্রথমেই জেনে গিয়েছিলো যে তারা মারা গিয়েছেন। ২৫% লোকেদের জন্য এটি খুশিতে ভরা অনুভূতি ছিলো। ১২% লোক আউট অফ বডি এক্সপেরিএন্স করেছিলো, অর্থাৎ তারা নিজেদের শরীর থেকে বাইরে এসে নিজেদের শরীর কে দেখতে পেয়েছিলেন। আত ১৭% লোক কোন মৃত মানুষের সাথে কথা বলেছিলেন। তাছাড়া বাকি পেশেন্টরা দূর থেকে আসা তীব্র আলো দেখতে পান, নিজেদের মরে যাওয়া পূর্ব বংশকেও দেখতে পান। আর কেউ হঠাত করে খুশির অনুভুতি পান, আবার কেউ ভয়েরও পান। কিন্তু এই স্টাডি সম্পূর্ণ ব্যাখায়িত ছিলো না। 

আমরা যেমন জানি, কোন বিষয়কে সত্য মানার জন্য আলাদা আলাদা জায়গায়া আলাদা আলাদা ভাবে আলাদা আলাদা মানুষের ওপর বৈজ্ঞানিক প্রোয়গ করে থাকে। এই স্টাডিকেও আবার প্রোয়গ করা হয়। ইউকে, ইউ এস এ, অস্ট্রেলিয়াতে এই পরীক্ষা করা হয়। এইবার পেশেন্টের সংখ্যা বেশি ছিলো আর আলাদা আলাদা রিসার্চ করা হয়েছিলো। 

রিসার্চ থেকে জানা যায়, মৃত্যু কোন একটি ঘটনা নয়, বরং একটি প্রক্রিয়া যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গার কোষ মরে যাওয়ার ফলে হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সঠিক ট্রিটমেন্ট এর দারা রিওয়ারড করা যেতেও পারে। আর এটাই ডাক্তারেরা চেষ্টা করে থাকে। তবে এই নতুন স্টাডি তে মাত্র ৯% পেশেন্ট নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স রিপোরট করে থাকে আর মাত্র ২% পেশেন্ট নিজের শরীরের বাইরে নিজেকে অনুভব করে থাকে। 

বিজ্ঞানীরা এটাও খোজ করেছেন যে, মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে অক্সিজেনের অভাবের ফলে আমাদের ব্রেইনের প্রক্রিয়া দ্রুত হয়ে যায়। এই কারনেই আমরা অনেক অস্বাভাবিক বিষয় অনুভব করি। এইটাও পাওয়া গেছে, মৃত্যুর সময় আমাদের ব্রেইন রেম ইন্সটুয়েশন সিচুয়েশনে চলে যায়। যেখানে আমাদের ইন্দ্রিয় থেকে আসা তথ্য মিলে যায়, আর আমাদের ব্রেইন এক ধরনের হেলুয়েশন সৃষ্টি করে। যেহেতুই এইগুলো আমাদের ব্রেইনেই হতে থাকে, এইজন্য যদি ব্রেইনের অন্যান্য ভাগ সচল নাও থাকে, তবুও আমরা এইটা অনুভব করতে পারি। যে কারনে আমাদের নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স হয়ে থাকে। তাছাড়া বেশির ভাগ লোকেদের দেখা তীব্র আলোর কারন, অপারেশন টেবিলে থাকা চমকানো আলো, যা একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো। আর নিজের শরীরের থেকে বাইরে আসার ঘটনাটি প্রমান করবার জন্য ডাক্তারের অপারেশন টেবিলের একটু ওপরে একটি করে চিঠি রেখে দিয়েছিলো, যাতে মৃত্যুপ্রায় ব্যাক্তিরা নিজের শরীরের বাইরে আসলে নিজেকে দেখার পাশাপাশি চিঠিটিও পড়তে পারে। কিন্তু এমন ঘটনা কখনই ঘটে নি। কেউই চিঠিটি পরতে পারে নি। 

এরপর আরো কিছু রিসার্চ করা হয়, যার ফল একই রকমের আসে। অর্থাৎ এইসব থেকে আমরা যেইটা জানতে পারি সেইটা হলো, মৃত্যুর পর যেইসব প্রক্রিয়া আমাদের ব্রেইনে চলতে থাকে, সেগুলোকে আমরা খেয়াল করতে পারি, এবং বিজ্ঞান যেইগুলোকে সম্পূর্ণ এক্সপ্লেইন ও করতে পারে। তাই এইবার আমি বলবো বৈজ্ঞানিক ভাবে মৃত্যুর পর কি ঘটে থাকে।

মৃত্যুর সময় যখনই আমাদের হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায়, ব্রেইনে তখন অক্সিজেনের সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায়, এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন কিছুক্ষনের মধ্যেই আমাদের শরীর সম্পূর্ণ ব্যাবহার করে ফেলে। তারপর ধিরে ধিরে ব্রেইন এর সব প্রক্রিয়া বন্ধ হতে থাকে। আর যেই হরমোন ব্রেইন রিলিজ করতো, অতিরিক্ত শরীরের প্রক্রিয়াগুলোকে মেইনটেইন করার জন্য, তাও বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে শরীরের সব কোষে ইন্সট্রাকশন পৌছায় না। সব কোষ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এরপর যেইটা হয়, তাকে আমরা বলি পোস্ট ডেথ প্রসেস। এইখানে শরীরের সব মাসলস রিলেক্স হয়ে যায়, কারন তারা আর কোন অক্সিজেন পায় না। ফলে মাসলস বার্ন এবং টেন্সড হতে থাকে।

এখন যেহেতু পেশেন্ট মেডিকেলে মারা গেছে, তার মানে এই নয় যে শরীরের ভেতর সব কিছু মরে গেছে। কিছু কোষ তবুও বেচে থাকে, এবং শরীরের পর্যাপ্ত শক্তিকে খরচ করতে থাকে। আর আমাদের শরীরের ১০০ বিলিওন ব্যাক্টেরিয়া বেচেই থাকে। এই ব্যাক্টেরিয়া সারা জীবন আমাদের সাথে আমাদের ত্বকে বাড়তে থাকে। মরবার পরেও এদের অনেক বড় ভুমিকা থাকে। মরবার পর শরীর ধিরে ধিরে রুম টেম্পেরেচারে আসতে থাকে। কারন শক্তির উপাদান আর হয় না। আর হৃৎপিণ্ড ছাড়া রক্ত শরীরের নিচের দিকে জমতে থাকে। এর রক্ত ২ ঘন্টা পরে ডাল্ট হতে থাকে। আর এইটা থেকে ডাক্তারের বলতে পারেন যে শরীর মরবার পর নারানো হয়েছে কিনা। তারপর ৮ ঘন্টা পর ক্যালসিয়াম মাসলস এর প্রোটিন এর সাথে কম্বাইন্ড হতে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রিজোরমরটিস। এই সময় শরীর ডিকম্পোজ হতে শুরু করে দেয়। শরীরের কোষগুলি মারা যায়। যেহেতু সারকুলেশন এর প্রক্রিয়া হয় না, তাই শরীর মৃত কোষগুলোকে পরিস্কার করতে পারে না। এই কারনে কার্বন ডাই অক্সাইড এর মাত্রা কোষে বারতে থাকে, যেইটা তাদের পি এইহ ভেলুকে বাড়িয়ে দেয়। এই কারনে সেল মরিয়স বা সেলস এর দেয়াল দুর্বল হতে থাকে, আর ভেতরের ফ্লুয়েজ কে বাইরে রিলিজ করতে থাকে। এরপর ফ্লুইয়েজ এবং ইঞ্জেলস রিএকশন করতে শুরু করে, যার ফলে শরীরের রঙ বদলাতে শুরু করে। আর উৎপন্ন করে আলাদা আলাদা রকমের গ্যাস। 

সনাতন ধর্মের ক্ষেতে সাধারনত শরীরকে পুরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাকি ক্ষেত্রে ২ বা ৩ দিন বাদে পিট্রুফেকশেন এর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। যেখানে আমাদের ব্যাক্টেরিয়া অঙ্গকে খেতে শুরু করে দেয়। ব্যাক্টেরিয়া ইঞ্জাইস্ট যারা খাবার কে ডাইজেস্ট করতে সাহায্য করতো জীবনকালীন, আনার সেইগুলি নিজেই নিজেকে হজম করতে শুরু করে দেয় পেটের ব্যাক্টেরিয়াগুলির সাথে। এই প্রক্রিয়ায় অনেক গ্যাস রিলিজ হয়, যা ২ টি ক্যামিকেল মৃতদেহকে একটি ট্রপিকেল গন্ধ দেয়, যার ফলে মৃতদেহকে খোলাখুলি বাইরে লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এই তীব্র গন্ধ সমস্ত এলাকায় ছড়িয়ে পরে। এই সময় মৃতদেহের শরীরের রঙ হাল্কা সবুজ থেকে বেগুনি হতে থাকে, যেইটা শেষ অব্দি কালো হয়ে যায়। আর নির্গত গন্ধই পোকামাকর কে আকৃষ্ট করে যা শরীরে ডিম পারতে শুরু করে।

একটি মাছি একটি নির্দিষ্ট সময়ে ৩০০ টির বেশি ডিম পারতে পারে। এই পোকামাকর ই একত্রিত হয়ে শরীরকে খেতে থাকে, যতক্ষন না তারা বিকশিত হতে পারে। এতে আরো বেশি গ্যাস উৎপন্ন হয়, এবং আরো বেশি গন্ধ তৈরি হয়। এই স্টেজ ১ বছর অব্দি চলতে পারে। এরপর শুধু হার, চুল, দাত বেচে থাকে, যেগুলি কিছু বছর পর গাছপালা অবজারব করে নেয়। শরীর পুরোপুরি মাটিতে মিশে যায়। 

আর বিজ্ঞানীদের মতে এইটাই হয় আমাদের শরীরের সাথে।

আপনাদের মতামত থাকলে কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন। ধন্যবাদ। 



মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ