সিক্রেট সোসাইটি
ইলুমিনাতি একটি সিক্রেট সোসাইটি। যেখানেই আছে রহস্য কিংবা চক্রান্তের গন্ধ সেখানেই যেন ইলুমিনাতিকে খুঁজে পায় অনেকে। ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আর ইলুমিনাতি একই মুদ্রার দুটো পিঠ। কিন্তু কী এই ইলুমিনাতি? কীভাবেই বা তারা এলো? কতটুকই বা কঠিন বাস্তব আর কতটুকুই বা কল্পনা?
ইলুমিনাতি শব্দটা শোনা মাত্র মাথায় শয়তানের রিচুয়াল, আত্না বিক্রির কথা মাথায় আসে। অনেক সেলিব্রিটি ইলুমিনাতির সাথে যুক্ত এই ক্লেইম ও করা হয়। তবে ইলুমিনাতির এই রহস্যের সত্যতা জানতে হলে যেতে হবে ১৭৭৬ সালে যখন Barvarian Illuminati নামে একটি সোসাইটি গঠন করেন প্রতিষ্ঠাতা Adam Weishaupt.
![]() |
| Adam Weishaupt (1748–1830) |
Adam একজন আইন অধ্যাপক যিনি জ্ঞানালক বিতরনে বিশ্বাসী ছিলেন। ইলুমিনাতি শব্দটি এসেছে ইলুমিনাত থেকে যার মানে হচ্ছে উদ্দিপ্ত করা, ব্যাখা করা। এই গ্রুপের সদস্যারা নিজেদের জ্ঞানি বলে মনে করতো, যারা জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে চাইছিলো। কারন তখনকার সাধারন মানুষেরা কুসংস্কারে বেশি বিশ্বাস করতো। কিন্তু কয়েকজনকে দিয়ে সমাজের এই পরিবর্তন সম্ভব নয় বুঝতে পেরে Adom তখনকার ধনী ও সুপরিচিত লোকদের সাথে উনার আইডিয়াটা শেয়ার করেন যেন উনাদের নিয়ে একটি অভিজাত গ্রুপ বানানো যায়। তবে মানুষের অন্ধ বিশসাস দূর করতে যেসব বড় বড় লোকদের গ্রুপে নিয়েছিলেন, তাদের উদ্দেশ্য সৎ ছিলো না৷ তারা লক্ষ্য বানিয়েছিলেন New world order অথবা নতুন অনুশাসন বা রীতির ভিত্তিতে নতুন পৃথিবী সাজানো। সেইখানে তারা রাজ করবে, রাজারা যেভাবে রাজ্য শাষন করে গেছে ঠিক তেমনি ভাবে পুরা পৃথিবীকে শাষন করার ইচ্ছা নিয়ে ইলুমিনাতি প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ করে তাদের মুঠোয় নিয়ে আসছে আমাদের যদিও আমরা সাধারন মানুষেরা বিষয়টা জানি ই না আজ পর্যন্ত।
কিভাবে তারা আমাদের তাদের মুঠোয় নিয়ে আসছে?
পুরো পৃথিবী কে শাষন করার জন্য সম্পুর্ণ পৃথিবীর ক্ষমতাধর ব্যাক্তিদের এই গ্রুপের সদস্য করা বাধ্যতামূলক ছিলো৷ তাই তারা এই গ্রুপে সেসকল ব্যাক্তিদের যোগ করা শুরু করেন। কিছু লোক নিজ ইচ্ছায় এই গ্রুপ জয়েন করেন, আবার কিচ্ছু লোককে ব্লাকমেইল করে সদস্য বানানো হয়৷ তখনকার প্রেইস্ট রাও এই গ্রুপ জয়েন করেন যাদের কাছে ছিলো প্রচুর পরিমাণ পলিটিক্যাল পাওয়ার। তাদেরও উদ্দেশ্য ছিলো পৃথিবী শাষন করার। তাই তারা ইলুমিনাতির প্রতিষ্টাতা Adom কে গ্রুপ থেকে বাদ করেন এবং এর পরই New world order এর বাধাহীন যাত্রা শুরু করে। এরপর গ্রুপে জয়েন হওয়ার যোগ্যতা ও শর্তাবলিও পরিবর্তন করেন। এরপর এই গ্রুপে শুধুমাত্র তারাই জয়েন করতে পারতো যারা হয় খুবই ধনী, না হয় খুবই জনপ্রিয় ও ক্ষমতাধর। এরপর এই গ্রুপে এমন সব লোকের আনাগোনা শুরু হয়, যাদের ইশারাতে হাজার হাজার মানুষকে প্রভাবিত করা যায়। পৃথিবীর কিছু বিখ্যাত ও সবথেকে ধনী পরিবার এই গ্রুপে জয়েন করেন যারা আজ সম্পুর্ণ পৃথিবীর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিকে বাম হাত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন।ধিরে ধিরে এ গ্রুপ শক্তিশালী হতে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্যে ছিলো রাজতন্ত্রকে মুছে ফেলা। এই ক্ষমতাধর লোকেরা মিলে অনেক রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সেখানকার সিস্টেমে তাদের বিশেষত এটা ছিলো যে তারা তাদের পরিচয় গোপন রাখতো। এরা সবার দৃষ্টির আরালে খুবই গোপনে তাদের সব কাজ চালিয়ে যেতে থাকে এবং একে অন্যর সাথে যোগাযোগ করার জন্য তারা কোড ওয়ার্ড ব্যাবহার শুরু করে। তারা নিজেদের গোপন রেখে অন্য কাউকে দিয়ে তাদের কাজ সম্পন্ন করতো এবং তার মাধ্যমেই সবার কাছে subliminal মেসেজ প্রচার করতো, যেনো সেসব মেসেজ মানুষের subconscious মনে ঢুকিয়ে দিয়ে সব মানুষকে সহজে নিজেদের শাষনে আনা যায়। এভাবে জলদি তাদের ক্ষমতা বাড়তে থাকে৷
নিজেদের ক্ষমতার অহংকারের কারনে হয়তো খুবই দ্রুত সবার পরিচয় জনসম্মুখে আসতে থাকে। অফিসিয়াল অথরিটি এই সোসাইটির সম্পর্কে জানতে তদন্ত করা শুরু করেন এবং ধিরে ধিরে অনেকেই ধরা পরে যায়। ১৭৮৫ সালের দিকে Charles Theodore ইলুমিনাতিকে ভেংগে ফেলেন। অনেকে শাস্তির ভয়ে সবাই একে অন্যার ব্যাপারে বলা শুরু করে দেয়। তখনকার দিনে প্রায় ২০০০ ব্যাক্তি অই গ্রুপের সদস্য ছিলেন। সবাই ধরা পরলেও ৩০ জন ব্যাক্তি ধরা ছোয়ার বাইরেই থেকে যায়।
![]() |
| Rituals |
১ম এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধে তারা অনেক অর্থ আয় করেছিলো। ১৯৬০ সালে ইলুমিনাতির কিছু সদস্যর নাম জনসমুক্ষে আসে। কিন্তু তারা এতটাই ক্ষমতাশালী ছিল যে তাদের বিপক্ষে যাওয়া লোকেরা বাচতে পারতো না। তবুও ধিরে ধিরে অনেক কথা সামনে আসতে থাকে৷ এবং কিছু কন্সপিরেসি থিওরিও সামনে চলে আসে।
১৯৭০ সালে Robert Shea ৩ টি বই প্রকাশ করেন, যাকে The Illuminastus! Trilogy ও বলা হয়। এই বইয়ে ইলুমিনাতির অনেক কন্সপিরেসি থিওরি আলোচনা করা হয়েছে। আবার এটাও বলা হয়েছে যে, ইলুমিনাতির সদস্যদের মধ্য কিছু Reptiles অথবা Reptilians ও আছে, যারা এক প্রজাতির এলিয়েন। এই কথা শুনে অনেকের মনে হবে যে প্রমান ছাড়া কোন কাহিনি লিখে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলো মুলত সবসময় ই এলিয়েনের ব্যাপার টা লুকিয়ে রাখার চেস্টা করেছে। তাই এলিয়েনের সব প্রমান পৃথিবী থেকে লুকিয়ে রাখতে Majestic 12 নামে একটি গ্রুপ ও বানানো হয় এবং একি উদ্দেশ্যে এলিয়েনের সকল গোপন তথ্য নিয়ে লেখা বই গায়েব করে দেয়া হয়।![]() |
| Reptilian |











মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন