আধুনিক কার্যক্রম RFID Chip


আজকে আমি বলবো ইলুমিনাতির এক আধুনিক কার্যক্রম RFID chip সম্পর্কে।

ইলুমিনাতির লক্ষ্য হচ্ছে সম্পুর্ণ পৃথিবীকে শাষন করা। তার জন্য দরকার পৃথিবীর প্রত্যকটি মানুষকে নিয়ন্ত্রনে আনা। আর সবাইকে নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্যে ইলুমিনাতি এখন সবার শরীরে Chips স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এই Chips স্থাপনের ব্যাপারে ১০ বছর আগে Aaron Russo বলে গিয়েছিলেন তার মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্বেই। এই chips স্থাপন ও ইলুমিনাতির সত্যতা প্রকাশ করার উদ্দেশে ফেমিলি সহ হত্যা করা হয় এক ডিরেক্টরকে।


RFID Chip
RFID chip এর পূর্ণ রুপ হচ্ছে Radio Frequency Identification chip. এটি দেখতে একটি চালের সমান হয় যার ভিতরে নেশনাল আইডেন্টিটি, ব্যাংক একাউন্ট ইনফরমেশন সহ অনেক তথ্য স্টোর করা যায়। ছোট এক অপারেশন এর মাধ্যমে বৃদ্ধা ও তর্জনি আংগুলের মাঝখানে স্থাপন করা হয়। এর পর এই চিপ ব্যাবহার করে যেকোন স্থানে পেমেন্ট করা সম্ভব কোন প্রকার ক্যাশ ও কার্ড ছাড়াই। এমনকি এই chip ব্যাবহার করে যে কোন দরজা লক আনলক করা যাবে। তাছাড়া এই chip এর সাহায্যে লোকেশন ট্রেক করা সম্ভব। অনেকের প্রশ্ন আসবে যে এই ধরনের chip এখন আছে কিনা। সুইডেনের কিছু কিছু কোম্পানি ইতিমধ্য তাদের ওয়ার্কারদের হাতে RFID chip বসানো শুরু করে দিয়েছে।



তবে ভাবার বিষয় এটা যে ভবিষ্যতে সরকার কি তাহলে নাগরিকদের এই চিপ ইমপ্লেন্ট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করবে? তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই চিপ বসালে মানুষের কি ক্ষতি হবে এবং ইলুমিনাতির সাথেই বা এর সম্পর্ক কি?


এই চিপ বসালে সব থেকে বড় ক্ষতি হবে মানুষের প্রাইভেসি নিয়ে। এই চিপ স্থাপনের মাধ্যমে মানুষ তার সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রন তুলে দিবে সরকারের হাতে। আর মানুষের উপর সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রন আনাই হচ্ছে ইলুমিনাতির উদ্দেশ্য। মানুষকে নিয়ন্ত্রণের সব থেকে বড় উপায় হচ্ছে তার অর্থনিতিকে নিয়ন্ত্রণ করা। কারন টাকাহীন ক্ষুধার্ত মানুষকে অসহায় বানিয়ে সহজেই তাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটা ততক্ষন সম্ভব নয় যতক্ষন ক্যাশ টাকার ব্যাবহার আছে। যার কাছে ক্যাশ টাকা আছে দূর থেকে সরকার তাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেনা।  সে যদি তার সব টাকা ডিজিটাল কারেন্সি হিসাবে যেমন বিকাশ, নগদ, ডাচ বাংলা, পেটিএম অথবা পেপাল একাউন্টে রাখে, সরকার তাতে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। যদি কোন ব্যাক্তি সরকারের বিরুদ্ধে প্রোটেস্টে করে, বা এমন কিছু করে যা সরকারের পছন্দ নয়, তাহলে সরকার ঐ ব্যাক্তির আইডি কার্ড যুক্ত সকল মাধ্যম ডিএক্টিভেট করে তাকে অসহায় বা বাধ্য করতে পারবে। এখন ক্যাশ টাকাহীন দুনিয়ার কথা চিন্তা করুন যেখানে সবাই ডিজিটাল কারেন্সি গুলা ব্যবহার করা হয়।

Gray state মুভিতে এ সম্পর্কে সব বলা আছে। এই মুভি বানানোর কারনে এই মুভির ডিরেক্টরকে পরিবার সহ হত্যা করা হয়। ডিরেক্টরের নাম ছিলো David Crowley. উনি মুভি বানানোর পর একটি ভিডিওতে যা বলে গিয়েছিলেন তার অনুবাদ এরকম, "এই মুভিটি কিছু বিষয় বিশেষন করবে। যেমন RFID, বায়ো ও নেনো টেকনোলজি। এগুলো মানুষ ও অথোরিটির নিয়ন্ত্রণ এর সমন্বয়কে প্রকাশ করবে। এগুলা কোনভাবেই আর বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা নয়। একজন স্বাধীনতাবাদী ফিল্মমেকার হিসাবে আমি আমার শ্রোতাদের বলতে চাই, আমি গেরান্টি দিচ্ছি যদি আমাদের মুভি থিয়েটারর চালাতে আপনারা আমাকে সাপোর্ট করেন, তাহলে সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তাচেতনার মোড় ঘুড়িয়ে দেয়া যাবে এখনকার উদাসীন ও ঘুমন্ত অবস্থা থেকে। Gray State হতে পারে মিডিয়ার জন্য ট্রোজান হর্সের মত যা মিডিয়াতে সত্যিকারের বিষয়গুলো ছড়িয়ে দিতে পারবে। এটি আসলে একটি মুভি কম বরং একটি সতর্কবানী। স্বাধীনতা দরকারি জিনিস। এটা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এইটাই মুভিটিতে তুলে ধরেছি।"

Gray State Poster

Aaron Russo ছিলেন আমেরিকান বিজনেসম্যান, ফিল্ম প্রোডিউসার, ডিরেক্টর ও একজন পলিটিকেল এক্টিভিস্ট। উনি এক ইন্টারভিউতে বলেন রকি ফেলার ফ্যামিলির এক সদস্য নিকোলাস রকি ফেলারের সাথে উনার পরিচয় হয়। এই ফ্যামিলি হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে ধনী ফ্যামিলিদের মধ্য একটি। ১৯৩৭ সালে এই ফ্যামিলির সম্পত্তির পরিমান ছিলো ৩৪০ বিলিয়ন ডলার যা ছিলো সম্পুর্ন আমেরিকার ইকোনমিক এর ১.৫%। এই সেই ফ্যামিলি যারা ওয়ার্লড লিডারদের সাথে মিলে নিউ ওয়ার্লড অর্ডার চালু করার প্লান করেন। এই ফ্যামিলির মাধ্যমে Aaron Russo এই প্লান এর সম্পর্কে জানতে পারে। উনি জানতে পারেন এদের উদ্দেশ্যে হচ্ছে মানুষের হাতে RFID চিপ ইমপ্লেন্ট করা যেখানে নিজ নিজ টাকা ও ন্যাশনাল আইডিন্টিটি জমা থাকবে এবং চিপ দারা সকল মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে যদিও সরকারের মৌখিক কোন আহবান আসেনি, তবে বিকাশ, নগদ, ডাচ বাংলা এসব যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে তা মিথ্যা নয়। তবে ২৬ অক্টোবরের শুক্রবারে এক জায়গায় চোখ আটকে যায়। এখানে ক্যাশ থেকে ক্যাশলেস কারেন্সিকে গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারটা সুস্পষ্ট ছিলো। আবার বাংলাদেশ সরকারের চিপ যুক্ত স্মার্টকার্ড এর ব্যাপারটিও নিশ্চিন্তাকে খটকা লাগালো। স্মার্টকার্ডের যে চিপ নাগরিকের ডিজিটাল ইনফরমেশন স্টোর করে রাখতে পারে, সে চিপ ব্যাংক ইনফরমেশন সহ ডিজিটাল কারেন্সি স্টোর করার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার হতে পারে। যেন এটিএম কার্ডের কোন প্রকার ভেজাল ছাড়াই সহজে সবাইকে ক্যাশলেস কারেন্সি এর আওতায় নিয়ে আসা যায়। আশা রাখি এই সন্দেহ যেন সত্য না হয়!

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ